India, Kashmir Travel

Spread the love

ঘুরে এলাম আগ্রা, দিল্লী এবং স্বপ্নের কাশ্মীর😍😍 থেকে।

এটি আমাদের ০২ জনের ১২ দিনের সফর। এটা আমার প্রথম লেখা দয়া করে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। প্রতিদিনের হিসাব রুপী থেকে টাকাতে পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে।

কাশ্মীর ভ্রমনে করণীয়ঃ
১. দয়াকরে কেউ ইন্ডিয়ার এজেন্ট থেকে ট্রেনের টিকিট কিনবেন না।
২. পাসর্পোটের ফটোকপি সব সময় কাছে রাখবেন।
৩. ট্রেনে খাবার ওয়াডার করার আগে মনেকরে দাম এবং বাঙ্গালী খাবার কিনা শুনে নেবে, নাহলে কিন্তু আপনি খেতে পারবেন না।
৪. প্রতিটি বড় ষ্টেশনে বিশুদ্ধ ঠান্ডা পানি বোতল ছাড়া ০৫ রুপী লিটারে বিক্রয় হয় এবং বোতল সহ ০৮ রুপী। পানিটা অনেক ভাল নিচিন্তে খেতে পারেন।
৫. জম্মু টু শ্রীনগরের রোডে যাবার সময় ভারী কিছু খাবেন না, তাহলে বমি হতে পারে তাই আপনার বমির অভ্যাস থাকুক আর না থাকুক।
৬. ডাল লেক থেকে কিছু কিনবেন না এবং খাবেন না, এতে আপনার টাকা সেভ হবে।
৭. গুলমার্গ ও পেহেলগাম থেকে কিছু কিনবেন না, ওদের ওখান থেকে শ্রীনগরে দাম কম ও মান অনেক ভাল।
৮. পেহেলগাম আপনি যদি ১ঘন্টা পাহাড়ে হাঁটতে পারলে কোন ঘোড়া নিবেন না, এতে টাকা সেভ হবে এবং ভাল করে দেখতে পারবেন।
৯. আগ্রা ও দিল্লীতে কোন দালালের সাথে কথা বলবেন না।
১০. আর্মিরা একটু বেশী সময় নিবে বাংলাদেশী শুনলে কিন্তু মাথা গরম করবেন না একটু হেঁসেঁ কথা কলবেন।

আমাদের যাত্রা শুরু ০৩ অক্টোবার, ২০১৮ ইং সকাল ৯টায় বেনাপোল স্থালবন্দর থেকে। প্রথমে ভ্রমন কর প্রদান করে ভারতে প্রবেশ করি। ভারতীয় ইমিগ্রেশান পুলিশের আবদার ১০০ টাকা, পরে ৫০টাকা দিয়ে বিদায় করলাম কোনমতে। আর আমাদের যাবতীয় টাকা রুপী করে নেয় এখান থেকেই। ১০০ টাকাতে ৮৬ রুপী পায়, যা আমার পাওয়া সব থেকে বেশী। পরে ওখান থেকে আমরা অটো করে ৩০ রুপী দিয়ে বনগাঁ ষ্টেশন যায়। সেখান থেকে ৩৫০ রুপী দিয়ে এয়ারটেলের একটি সীম কিনে ফেলি, যাতে আমাদের ২৮দিন ১.৪জিবি করে ইন্টারনেট প্রতিদিন, আনলিমিটেড কল ইন্ডীয়ার সকল নম্বরে, বাংলাদেশে ২.৯৮ রুপী প্রতিমিনিট এবং ৬২ রুপী বেলেন্সে। এবার বনগাঁ ষ্টেশন থেকে ২০ রুপীর টিকিট কিনে চলে যায় শিয়ালদা। কিন্তু আমরা বিধাননগর ষ্টেশনে নামি (এটা শিয়ালদার আগের ষ্টেশন), হাওড়া টু আগ্রার ট্রেনের টিকিট নেবার জন্য। বিধাননগর পৌরসভার কেন্টিনে লাঞ্চ শেরে নেয় ১০০ রুপী দিয়ে আনলিমিটেড ভাত, সবজী, ডাল এবং ২পিচ মুরগীর মাংস(একে ইন্ডীয়ায় মুরগীর থালী বলে)। হাওড়া টু আগ্রার ট্রেনের টিকিট তৎকালে তুফান এক্সপ্রেসে ৭২০ রুপী করে পড়ে নন-এসি স্লিপারে। তারপর চলে যায় নিউমার্কেটে কিছু ব্যক্তিগত কেনাকাটার জন্য। প্রথম রাতটা এক আত্নীয়র বাসায় কাটিয়ে দেয়(৫০০ রুপী সেভ করে ফেললাম)। আপনার যদি হোটেলে কম টাকা খরচ করতে চায় তাহলে নিউমার্কেটের আশপাশে না থাকায় ভাল। নিউটাউনের দিকে ৫০০ রুপীতে মোটামুটী ভাল হোটেল পাবেন। রাতের খাবার খরচ ৮০ রুপী। পরের দিন সকাল ৯.৩৫টে ট্রেন থাকায় তারাতারি ঘুমাতে গেলাম।
দিনের খরচঃ ৫৪২+৫০+৩৫+ ( সীম ৪০৭/২)+২৪+৮৩৮ট্রেন টিকিট+১১৭+১৪+৯৩+১৪= ১৯৩১ টাকা

০৪ অক্টোবার, ২০১৮ ইং
সকাল ৮.৩০ পৌছে যায় হাওড়া ষ্টেশনে ২০ রুপী বাস ভাড়া দিয়ে এবং ২০ রুপীতে সকালের নাস্তা শেষ। ট্রেনে ওঠার আগে ফল, পানি, জুস, লেস চিপস এবং শুকনা খাবার নিয়ে নিলাম। এগুলো নিতে আপনিও কিন্তু ভুল করবেন না, এ গুলো অনেক কাজে লাগে এবং অনেক টাকা সেভ করে। আমাদের তুফান এক্সপ্রেস ৯.৩৫শেই যাত্রা শুরু করল, মনে করেছিলাম তুফান এক্সপ্রেস যাবেও তুফানের মতো কিন্তু হতাশ করল আমাদের। এটি নাকি সব থেকে লোকাল ট্রেন। দয়াকরে কেউ এতে ভ্রমন করবেন না, এটি আমাদের একদিন সময় নষ্ট করে দিয়েছিল। ট্রেনে দুপুরে বিরয়ানী খেলাম ১৩০ রুপী দিয়ে। স্বাস মোটামুটি হলেও পরিমান যথেষ্ট নয়। তাই রাতের বেলা আপেল, জুস, আর লেস চিপস দিয়ে চালিয়ে দিলাম।
দিনের খরচঃ ২৩+২৩+৭০+৩৫+২৩+৫৫+২৩+১৫০= ৪০২ টাকা

০৫ অক্টোবার, ২০১৮ ইং
এই দিনটাও আমাদের ট্রেনে কাটাতে হয়। দুপুর ২টার ট্রেন রাত ৯টার কিছু পর পৌছায় আগ্রা, ট্রেন মাত্র ৭ ঘন্টা লেট। আমি ট্রেন লেট হচ্ছে বলে বুকিং ডট কমে ৪০০ রুপীতে হোটেল বুকিং করি। নাম Rhine Hostel, তাজমহল থেকে ১৫ মিনিটের হাঁটার রাস্তা। বুকিং ডট কমে রেটিং না দেখে হোটেল বুকিং দিবেন না। আমি রেটিং দেখে লাভবান হয়েছি, কারণ হোটেলটা ভাল ছিল। আগ্রা ফোর্ট ষ্টেশন থেকে ওলাতে করে চলে গেলাম হোটেলে ১১০ রুপী দিয়ে। হোটলে চেক ইন করে খেতে চলে গেলাম ডিনার করতে। ১৪০ টাকা দিয়ে জঘন্য ফ্রাইড রাইচ এবং ডিম কারি। পারলে বাঙ্গালী হোটেলে বা ফল খেয়ে কাটাতে পারলে ভাল হয়।
দিনের খরচঃ নাস্তা ২৩+পানি ২৩+দুপুরের খাবার ৪০+২৩ সিংঙা+১২৭+ (৪৬৫/২)+১৬২+২৩= ৬৫৪ টাকা

০৬ অক্টোবার, ২০১৮ ইং
সকাল ৬টায় চলে গেলাম আগ্রা কেন্টঃ ষ্টেশনে, ফরেন কোটায় টেনের টিকিট কাটব বলে। যেয়ে দেখি আমারা ২ জন ছাড়া আর কেউ নেয়। কাউন্টার ৮টায় খুলবে। ৮টার কিছু আগে কাউন্টার খুলল।তবে পাসপোর্টের ফটোকপি নিতে ভুলবেন না। আমরা সবার আগে তার পত একজন ফ্রেন্স, তাকেও ফরম পূরণ করতে সাহায্য করলাম। আমরা ওই দিনই রাত ৮.৫০ মিনিতে জম্মুর টিকিট পেয়ে যায়। নিউ দিল্লী টু জম্মু ৫০৫ রুপী করে নেয় নন-এসি স্লিপারে। ওখান থেকেই জম্মু টু নিউ দিল্লীর রির্টান টিকিটও নিয়ে নেয় ৪৭৫ রুপী করে ১০ অক্টোবারের এবং দিল্লী টু হাওড়ার টিকিটও কিনে নেয় ৮৫০ রুপী করে ১২ অক্টোবার সকাল ৭টায়। দয়াকরে রির্জারভেশন ফর্ম পূরণ করার আগে app গুলোতে ফরেন কোটা আছে কিনা চেক করে নিবেন। আমাদের সব টিকিট পেয়ে মনের খুশীতে সাহজানের অমর কৃত্তি তাজমহল দেখতে যায়, ওলা ভাড়া ৮০ রুপী দিয়ে। তারপর ৫৪০ রুপী দেয়ে টিকিট কেটে প্রবেশ করি স্বপ্নের তাজমহল দেখতে। আসলে অনেক অনেক বেশি সুন্দর এই তাজমহল। যতই দেখি তত অবাক করছে আমাকে, এতো এতো সুন্দর করে কিভাবে ঐ সময় এটা বানালো। তাজমহল দেখে চলে আসি হোটেলে, ১৫ মিনিট হেঁটে। হোটেলে গোসল সেরে এবং চেক আউট করে চলে গেলাম KFC তে চিকেনের স্বাদ নিতে। চিকেন খাওয়া শেষ করে চলে গেলাম আগ্রা ফোর্ট দেখতে ১০ রুপী করে আটোতে। আগ্রা ফোর্টে বিনামূল্যে ব্যাগ রাখা যায় তাই তাজমহলের টিকিট দেখিয়ে ৪০ রুপীর টিকিট নিয়ে প্রবেশ করি আগ্রা ফোর্টে। যেখানে মোঘল সর্ম্রাটরা থাকত, যাদের নাম পড়তে পড়তে আমরা বড় হয়েছি। আগ্রা ফোর্টে গাইড নেবার কোন দরকার নেয় আর যদি আপনি চান তাহলে নিতে পারেন। আগ্রা ফোর্ট দেখা শেষে দুপুর ৩টার দিকে বাসে উঠে বসলাম দিল্লীর উদ্দেশে। বাস ভাড়া ১০০০ রুপী করে। সন্ধ্যা ৭টার দকে নামিয়ে দিল বোটানিক গাডেন, দিল্লীতে ওখান থেকে ৪০ রুপী দিয়ে মেট্রোতে চড়ে চলে এলাম নিউ দিল্লী মেট্রো ষ্টেশনে। যার পাশেই নিউ দিল্লী রেল ষ্টেশনে, যেখান থেকে আমাদের রাত ৮.৫০ এ জম্মুর ট্রেন ধরতে হবে। রাতের খাবার সেরে নিলাম নিউ দিল্লী রেল ষ্টেশনের কেন্টিনে কিন্তু খাবার জঘন্য জঘন্য। পারলে ১নং প্লাটফর্ম থেকে বের হলেই মজাদার চিকেন বিরয়ানী পাবেন ৯০ রুপী করে নিবে। আবারও কিছু জুস আর খাবার নিয়ে জম্মুর উদ্দশে যাত্রা যথা সময়ে।
দিনের খরচঃ ২৩+নাস্তা ১৮+নিউ দিল্লী টু জম্মু ৫৮৭+জম্মু টু নিউ দিল্লীর রির্টান ৫২২+ এবং দিল্লী টু হাওড়ার টিকিট ৯৮৮+পানি ১২+দুপুরের খাবার ২৬০+তাজমহলের টিকিট ৬২৮+১২+আগ্রা ফোর্টের টিকিট ৪৬+২৩+বাস ভাড়া১১৬৩+মেট্রো ভাড়া ৪৬+রাতের খাবার ৫০= ৪৩৭৮ টাকা

০৭ অক্টোবার, ২০১৮ ইং
সকাল ৬টার দিকে পৌঁছে যায় জম্মা ষ্টেশনে, একেবারে নির্ধারিত সময়ে। জম্মুতে কিন্তু অন্য প্রদেশের প্রিপেইড সিম কাজ করে না কিন্তু পোষ্টপেইড সিম কাজ করে। এতএব আমরা চললাম কোন সম কার্ড ছাড়া। সকালে কিছু না খেয়ে আমাদের যাত্রা শ্রীনগরের উদ্দেশে(যেটি আমাদের বমি থেকে অনেক সাহায্য করেছিল), শেয়ার টেক্সিতে করে ১০০০ রুপী করে ভাড়া। যেতে হবে আমাদের মোঘল রোড দিয়ে, সাধারণত এই রোড দিয়ে যায় না গাড়ী গুলো। মোঘল রোড দিয়ে গেলে প্রায় ১০০ কিলো রাস্তা বেশী। ৩৫০ কিলো রাস্তা যেতে ১৪ ঘন্টার মতো সময় লাগে যদি বড় কোন জাম না পড়ে। আর্মিরা একটু বেশী সময় নিবে বাংলাদেশী শুনলে কিন্তু মাথা গরম করবেন না একটু হেঁসেঁ কথা কলবেন, আমাদের কে ওরা ২০ মিনিটের মতো প্রশ্ন করেছিল এবং ছবি নিয়ে ছিল। মোঘল রোড দিয়ে এলে পীরের-কা-দর্গাতে থামতে যেন ভুল না হয়। তাহলে কিন্তু অনেক বড় কিছু মিছ করবেন। রাস্তায় গাড়ীর চালক এতো জরে টান দিচ্ছে এবং টার্ন নিচ্ছে আমাদের সিটে বসে থাকাই মুসকিল, ঘুমনো তো অনেক দূরের কথা। সারা রাস্তা আল্লাহ আল্লাহ করতে করতে আসছি।
সন্ধ্যা হয়ে গেল সাউথ কাশ্মীরে, যেখানে রাতে তেমন কেউ চলাচল করে না। আমাদের সাথে ৩ জন ইন্ডিয়ান অনেক ভয় পাচ্ছিল। প্রতি সপ্তাহে নাকি এখানে ৪-৫ জনের মতো আর্মির সাথে গোলাগুলীতে মারা যায়। দখলাম কিছু পাকিস্থানী পতাকা ভারতের ভেতরে। অবশেষে রাত ৯টার দিকে শ্রীনগরে এলাম। এসে ডাল লেকের পাশে হোটেল গুলো ১০০০রুপী চাইল। আমি ৫০০ রুপী জমা রেখে ১৫০ রুপী দিয়ে একটা সীম নিলাম। যার ৫০০ রুপী ফেরত যোগ্য। এরপর বুকিং ডট কমে হোটেলের দাম চেক করলাম। বেশ কয়েকটি হোটেলের সাথে কথা বল্লাম কিন্তু New World Guest House এর সাথে কথা বলে অনেক ভাল লাগল। চলে গেলাম ওই খানে ৩০০ রুপী করে নিবে প্রতি রাত। একেবারে খায়েম হাসপাতালের পাশে। তবে হোটেলের ম্যানেজার খুব ভাল মানুষ তিনি আমাদের সব কিছু ভাড়া করে দিয়েছে যা অন্য সব কিছু থেকে কমে। এরপর রাতের খাবার কাশ্মীরী বিরয়ানী ১১৫ টাকা করে
দিনের খরচঃ ১১৬৩+নাস্তা ৩০+ ২৩ লেস+ ১১ পানি+ চা ও নাস্তা ৪০+ (হোটেল ৩৫০/২)+ ৩০+ ডিনার ১৩৫+ সিম ৮৭= ১৬৯৪ টাকা

০৮ অক্টোবার, ২০১৮ ইং
পরের দিন সকালে যেতে পারেন গুলমার্গ। যেতে কার খরচ পড়বে ২০০০ রুপী ০৯ সিটের গাড়ী। চায়লে শেয়ার করেও যেতে পারেন। সকালের নাস্তা চা আর কাশ্মীরী রুটিয় ভাল। গুলমার্গে একদিনে ঘুরে চলে আসলে খরচ হবে ২০০০-২৩০০ রুপীর মতো। তবে যেখানে যান বা ঘোড়াতে ওঠেন দামা দামি করে উঠবেন। শেষ বিকালে চাইলে ডাল লেকে ঘুরতে পারেন যদি আপনার হাতে সময় কম থাকে আমার মতো। নৌকা ভাড়া নিবে ৭০০-৮০০ রুপী ২ ঘন্টার জন্য। নৌকাতে ওঠার আগে পানি আর চিপস নিলে ভাল। ডাল লেকে ১০ টাকার জিনিস ৫০ টাকা। আর একটা কথা ফ্লোটিং মার্কেট থেকে কিছু কিনবেন না এবং ডাল লেকে কিছু খাবেন না, কিছু কিনলে বা খেলে ওরা একটা বড় অংকের কমিশন পায়। রাতে খেতে ভুলবেন না ছাগলের বা বখরির শিক কাবাব, কবাবের জন্য বিখ্যাত খায়বার হাসপাতলের সামনের রোডটা। রাতে খেলাম এক বাঙ্গালী হোটলে চিকেন থালি ১৭০ রুপী।
দিনের খরচঃ নাস্তা ৩০+ গুলমার্গ ২৪০০+ নৌকা ভাড়া (৮৫০/২)+ ৬০+ শিক কাবাব ৭০+ রাতের খাবার ১৯৭+ হোটেল ভাড়া ১৭৪ = ৩৩৫৬ টাকা

০৯ অক্টোবার, ২০১৮ ইং
সকাল ৭টায় আমরা ৯সিটের গাড়িতে ২ জন চলে গেলাম স্বপ্নের পেহেলগামে। যেতে ২ঘন্টার রাস্তা আপেল বাগানের মাঝদিয়ে। যাবার সময় আর্মির চলাচল দেখে ভয় পাবার কিছু নেয়, এটি এদের নিয়মিত কাজ। পেহেলগামে জানার এবং বোঝার অনেক কিছু আছে। আমি ঘোড়া নিবো কি না?? কোথায় কোথায় যাব?? কত টাকা নিবে ঘোড়া?? তবে আপনি যদি ১ঘন্টা পাহাড়ে হাটতে পারলে কোন ঘোড়া নিবেন না। আমি ১২৫০ রুপী করে ৫ জায়গায় যেয়ে মাথায় বাড়ি দিয়েছি। ২০ মিনিটও লাগলোনা ১২৫০ রুপীর রাস্তা যেতে। বানসারানে যেতে কিন্তু ভুল করবেন না। অনেক সুন্দর বানসারান, এখানে ঢুকতে ২০ রুপী করে নিবে। আর কোন কোন জায়গায় যাবেন জানতে, যারা যাবেন তারা দয়াকরে মেসেজে শুনে নেবেল অনেক টাকা সেভ হবে। পেহেলগামে কিন্তু কিছু হয় না আপেল ছাড়া, তাই এখান থেকে কিছু কিনবেন না। আবার বলছি কিছু কিনবেন না এর থেকে শ্রীনগরে দাম কম। বানসারান থেকে ফিরে আবার টেক্সি স্টান্ডে ঘোড়ায় করে চলে এলাম। পেহেলগামে ১ নম্বর টেক্সি স্টান্ড থেকে আরু ভ্যালীর শেয়ার কার যায় ৩০ রুপী করে নেয় কিন্তু এরা ২ জন টুরিষ্ট একসাথে নিবে না। আমরা ২ জন ছিলাম তাই আমরা ২টা কারে ভাগ হয়ে গিয়েছি। নাহলে ৫৫০ রুপী দিনে রিজার্ভ করে যেতে হবে। পেহেলগামে ডিম সিদ্দ, ডিম ভাজি, কার্টলেট এই সব খেয়েছি আমরা। আরু ভ্যালীতে তেমন কিছু নেই দেখার মতো,তাই কম সময় দেওয়া ভাল। আসার সময় আপেল বাগান থেকে আপেল এবং টাটকা আপলের জুস খেয়ে চলে এলাম শ্রীনগরে। আমি এর আগেও আপেল বাগানে গিয়েছি তাই তেমন আগ্রহ ছিল না। রাতে আবার খেলাম এক বাঙ্গালী হোটলে চিকেন থালি ১৭০ রুপী দিয়ে।
দিনের খরচঃ নাস্তা ২৩+দুপুরের খাবার ৫০+গাড়ি ভাড়া ১১৬৩+ ঘোড়া ১৪৫৩ +৭০ +৯২ + আপলের জুস ৩৫+ রাতের খাবার ১৯৭+হোটেল ভাড়া ১৭৪ = ৩২৫৭ টাকা

১০ অক্টোবার, ২০১৮ ইং
সকাল ৬.৩০টায় চা খেয়ে বের হলাম জম্মুর উদ্দেশে। রাস্তায় গিয়ে শুনি আজও জম্মু টু শ্রীনগরের মেইন রোড বন্ধ। আবার মোঘল রোড দিয়ে যেতে হবে। আবার সেই ভয়াবহ রাস্তাটা, একটু ভয় করছে আবার আনন্দও হচ্ছে রাস্তাটি আবার দেখতে পাব বলে। রাস্তার দুপাশে পাহাড়ে সাদা বরফে ঢাকা, কি অপূর্ব দৃশ্য, যা এই জীবনে কোন দিন ভুলবো না। পীরের-কা-দর্গাতে থেমে একটু বরফ নিয়ে খেলা করলাম। সেই কতদিনের স্বপ্ন ছিল এটা। দুপুরে লেস চিপস আর জুস চাড়া কিছু খেলাম না, বমি হওয়ার ভয়ে। গাড়িতে তো একজন করেই দিল বমি। তাই না খাওয়াই ভাল। আমরা রাত ৮টার দিকে জম্মু ষ্টেশনে এসে রাতে খেলাম এক বাঙ্গালী হোটলে চিকেন থালি ১৩০ রুপী দিয়ে। রাত ৯.৩০ টয় উঠে পড়লাম ট্রেনে, আমাদের পরবর্তী গন্তব্য নিউ দিল্লীর উদ্দেশে। সারা দিনের অনেক কষ্ট তাই ট্রেনে উঠে ঘুম দিলাম।
দিনের খরচঃ নাস্তা ২৩+ খাবার ৪০+গাড়ি ভাড়া ১১৬৩+ রাতের খাবার ১৫০ = ১৩৭৬ টাকা

১১ অক্টোবার, ২০১৮ ইং
এই সকালটা হলো ট্রেনে দিল্লীতে। সকাল ৯টার দিকে ট্রেন থেকে নেমে পাহাড়গঞ্জে হোটেল খুজতে বের হলাম। বুকিং ডট কমে এবার দামটা বেশী মনে হল তাই আমরা নিজেরা খোঁজা আরম্ভ করলাম। পেয়েও গেলাম ৪০০ রুপী দেয়ে তবে কিছু বেশী কথাও খরচ করতে হয়েছে। দিল্লীতে দালালের কোন অভাব নেই, দয়াকরে ওদের সাথে কথা বলে সময় নষ্ট করবেন না। এমন ভাব করবেন যেন কিছু শুনেন নাই বা বোঝেন না। দুপুরে পাহাড়গঞ্জে ৯০ রুপী দিয়ে মুসলিম বিরয়ানী খেয়ে ফেললাম। এরপর গেলাম দিল্লীতে ইন্ডীয়া গেট, পার্লামেন্ট ভবন, কুতুব মিনার, কারোল বাগ এবং জামে মসজিদ দেখতে। সব কিছু মেট্রোর মাধ্যমে ঘুরলাম এতে টাকা ও সময় সেভ হয়। কারোলবাগে McDonalds এ বসেMc Spicy Burger এর সাথে কোক আর ফ্রেন্স ফ্রাই খেলাম। জামে মসজিদের এলাকাকে আমি বলি ফুড হেবেন। এতো মজার খাবার একসাথে পাওয়া যায় এখানে। তবে শাহী টাকরা এবং চিকেন ফ্রাই খেতে যেন ভুল না হয়। করিমসে খেতে পারেন যদি আপনার পকেটে বেশি পরিমানে টাকা থাকে, না হলে নয়। আমি গতবার খেয়েছিলাম করিমসে, আমার কাছে খাবার খুব ভাল লাগেনি উচ্চ মূল্যের জন্য। তবে কেনাকাটার জন্য চাঁদনী এবং কারোলবাগ বিখ্যাত। কলকাতা থেকে দিল্লীতে দামও কম এবং চলাফেরা করে অনেক আরাম। আমার অনেক ভাল লাগে দিল্লী শুধুমাত্র বাতাশটা ছাড়া।
দিনের খরচঃ নাস্তা ২৩+দুপুরের খাবার ১০০+যাতায়ত ভাড়া ১৮০+ চিকেন ফ্রাই ১২০ +McDonalds ২৭০+ শাহী টাকরা ৩০++হোটেল ভাড়া ২৩০ = ৯৫৩ টাকা

১২ অক্টোবার, ২০১৮ ইং
সকাল ৭টায় ট্রেন থাকায় ৬টার দিকে চলে এলাম পুরাতন দিল্লী রেলষ্টেশনে ৫০ রুপী ভাড়া দিয়ে। এরপর নির্ধারিত সময়ে ট্রেন যাত্রা শুরু হলো। ভাগ্য ক্রমে ৬ সিটের ৫ জনই বাংলাদেশের, সবই জমিয়ে আড্ডা দিলাম। পুজার জন্য ছিল ট্রেনে উপচে পড়া ভীড়।
দিনের খরচঃ নাস্তা ১২+ খাবার ৪০+নুডুস ২৫+ চিপস ও জুস ৭০ = ১৪৭ টাকা
১৩ অক্টোবার এবং ১৪ অক্টোবার, ২০১৮ ইং
আমাদের ট্রেন আবার ৬ ঘন্টা লেট, আমরা হাওড়া এলাম বেলা ১টায়। তারপর বিরয়ানী খেয়ে বিকলে নিউ কলকাতাতে ভ্রমনে বের হলাম। রাতে আবার সেই আত্নীয়ের বাসায় উঠলাম এবং পরদিন খুব সকালে বেনাপোলের উদ্দেশে যাত্রা। সকাল ৭টায় বিধাননগর থেকে ট্রেনে বনগাঁ ২০ রুপী দিয়ে এবং ৩০ রুপী দিয়ে চলে এলাম বেনাপোলে। চকলেট বা অন্য কিছু কিনে নিলাম এখান থেকে। আবার ভারতীয় ইমিগ্রেশান পুলিশের আবদার ১০০ টাকা, আমিও দিলাম ৭৫ টাকা। অবশেষে দেশে ধুকলাম ১১টার দিকে। বেনাপোল পোর্ট নিয়ে পরে আর একটা পোষ্ট করব, কিভাবে টাকা সেভ করা যায় কারণ এখন বেনাপোলে সবাই শুধু টাকা আর টাকা চায়।
দিনের খরচঃ নাস্তা২৩+দুপুরের খাবার ১৩০+যাতায়ত ভাড়া ৯৪+পুলিশ ৭৫+অন্যান্য ১০০ = ৪২২ টাকা

মোট খরচঃ ১৯৩১ +৪০২+ ৬৫৪ + ৪৩৭৮ + ১৬৯৪+ ৩৩৫৬ + ৩২৫৭+ ১৩৭৬ + ৯৫৩ + ১৪৭+ ৪২২ = ১৮,৫৭০ টাকা

Farjana Akter

Generations previous to the year 2000 used to reach, exclusively, for travel agencies when wanting to plan a trip. Consequently, travel agents became personal counselors, destined to help customers with their search to build the perfect vacation itinerary.

9 thoughts on “India, Kashmir Travel

  • March 23, 2019 at 3:55 pm
    Permalink

    My spouse and I love your blog and find almost all of your post’s to be just what I’m looking for. can you offer guest writers to write content for you? I wouldn’t mind producing a post or elaborating on some the subjects you write concerning here. Again, awesome weblog!

    Reply
  • March 30, 2019 at 10:11 pm
    Permalink

    I have been surfing online more than three hours today, yet I never found any interesting article like yours. It is pretty worth enough for me. In my opinion, if all webmasters and bloggers made good content as you did, the net will be a lot more useful than ever before.

    Reply
  • April 11, 2019 at 9:26 am
    Permalink

    Just a smiling visitant here to share the love (:, btw outstanding design and style. “Better by far you should forget and smile than that you should remember and be sad.” by Christina Georgina Rossetti.

    Reply
  • May 5, 2019 at 8:58 pm
    Permalink

    Attractive section of content. I just stumbled upon your weblog and in accession capital to assert that I acquire actually enjoyed account your blog posts. Anyway I’ll be subscribing to your augment and even I achievement you access consistently quickly.

    Reply
  • July 16, 2019 at 5:46 am
    Permalink

    I got this site from my buddy who shared with me concerning this web site and now this time I am visiting this web page and reading very informative content at this time.

    Reply
  • July 17, 2019 at 12:26 am
    Permalink

    Youre so cool! I dont suppose Ive read anything like this before. So good to search out someone with some authentic ideas on this subject. realy thanks for beginning this up. this website is something that is wanted on the web, someone with a bit of originality. helpful job for bringing something new to the web!

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *