Tripura travel

Spread the love

যারা খুব কম বাজেট এ ভারত এর কোন জায়গা ভ্রমণ করে পুরানো প্রাসাদের রাজকীয় সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান পোষ্টটি তাদের জন্য।

আগরতলা ত্রিপুরার রাজধানী এবং পশ্চিম দিক বাংলাদেশে মোড়ানো।

প্রথমে ভিসার আবেদনের সময় আগরতলা অবশ্যই উল্লেখ করে ভিসা আবেদন করেছিলাম।

চট্টগ্রাম শহর থেকে বিজয় এক্সপেস এ সকালে ট্রেন এ আখাউড়া স্টেশন নামলাম।
স্টেশন থেকে রিক্সাতে করেই বর্ডারে পৌছালাম।

বর্ডারে আপনাকে ৫০০ টাকায় ভ্রমন টেক্স দিয়ে ইমিগ্রেশান ক্রস করতে হবে।

এরপর আরো ৫০ রুপী অটো ভাড়ায় পৌছ গেলাম আগরলতা প্রানকেন্দ্র পোষ্টঅফিস চৌমুহনী।সেখানে মোড়ের পাশেই একটি হোটেল এ উঠে পড়লাম সম্ভবত WELCOME PALACE নাম।

সুতরাং যাতায়ত বাবদ আপনি ৩৮০ টাকা খরচ করেই চট্টগ্রাম থেকে আগরতলায় হোটেল অব্দি পৌছে গেলাম।

পোষ্ট অফিস চৌমহনীর আশেপাশে অনেক এসি নন এসি হোটেল দেখতে পাবেন।
এসি ডাবল-১০০০ থেকে ৪০০০ রুপীতে।
নন এসি ডাবল ৪০০-১০০০ রুপীতে পাবেন। শীতকালে এসি রুম ভাড়া নিয়ে বোকামী না করাই ভাল।

কি কি দেখতে পাবেনঃ
আগরতলা ত্রিপুরার রাজধানী। ত্রিপুরার ৭০% বাংগালী এবং ৩০ % ট্রাইবাল লোকজন। এখানে মহারাজ রাধা কিশোর মানিক্যের এক অসাধারণ কীর্তি উজ্জয়ন স্টেট প্যালেস ও রুদ্রসাগরের মাঝে গড়ে তোলা নীর মহল আপনাকে বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা দিবে। রাজা মহারাজার প্রাসাদের রাজকীয় অভিজ্ঞতা এখানেই পাবেন। এছাড়া আছে হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকগুলো বিখ্যাত মন্দির।

আগরতলার শহরে মজার বিষয় হল এখানে এলে আপনার মনে হবে ব্রাম্মনবাড়িয়ায় এসেছেন। শহরের ৭০-৮০% অধিবাসীই ব্রাম্মনবাড়িয়ায় ভাষায় কথা বলে।

শহরের মধ্যেই পোষ্ট অফিস চৌমহনীতে আছে ভারতীয় কংগ্রেসের রাজনৈতিক কার্যালয়। কর্মীদের আড্ডা ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডে মুখরিত হয়ে আছে সবসময়।

সেখান থেকে খুব নিকট দূরত্বে আছে মহারাজ রাধা কিশোর মানিক্যের অনন্য সৃষ্টি উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ। ১৯০১ সালে মহারাজ রাধা কিশোর মানিক্য এটি নির্মান করেন। এই প্রাসাদের নাম রাখেন কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। মোগল ও ব্রিটিশ আর্কিটেকচারের এক অসাধারণ মিশ্রনে গড়ে তোলা এই রাজপ্রসাদ আপনাকে দিবে এক রাজকীয় অভিজ্ঞতা। রাজপ্রসাদটি এখন মিউজিয়াম হিসেবে গড়ে উঠেছে। মিউজিয়ামটির ভিতরে বাংলাদেশ কর্নারে ১৯৭১ সালে ত্রিপুরাবাসীর ভুমিকা ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। রাজপ্রসাদের দুই পাশে আছে বিশাল দিঘী। দিঘীর পাড় সারি সারি শাল বাগান ও বড় বড় গাছ লাগানো।

প্রাসাদের পাশেই আছে রাজা কর্তৃক নির্মিত জগন্নাথ মন্দির ও রাজবাড়ি কালী মন্দির। এছাড়াও আছে রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুল
এবং সুকান্তের নামে গড়ে উঠা সাংষ্কৃতিক কেন্দ্র। ত্রিপুরার বাংগালীরা সাংষ্কৃতিকভাবে খুবই সক্রিয়। প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন অনুষ্টান ওখানে হতেই থাকে। ত্রিপুরাতে হস্থশিল্প বলতে প্রধানত বাশেঁর ও কাঠের তৈরী বিভিন্ন জিনিষপত্র।

প্রথমদিন দুপুরে আগরতলা শহরে নেমেই উজ্জয়ন্ত প্রাসাদে যাই। পরেরদিন ত্রিপুরার অন্যান্য আর্কষনগুলো ঘুরে দেখার জন্য একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করি উজ্জয়ন্ত প্রাসাদের সামনের স্ট্যন্ড থেকে। মূলত ত্রিপূরার সব জায়গা যদি দেখতে চান তা দুইদিনে সম্ভব যদি কার ভাড়া নিয়ে থাকেন। ১৮০০রুপী চুক্তিতে ভাড়া করা মাইক্রোটি সকাল ৯ টায় আমাদের হোটেলের সামনে উপস্থিত হল। সকালে চা নাস্তা খেয়ে আমাদের প্রধান আর্কষন নীর মহলের দিকে রওনা হলাম। আমাদের ড্রাইভার খাটি ব্রাম্মনবাড়িয়ার ভাষায় কথা বলে।

ত্রিপুরার সবচেয়ে বড় আর্কষন হল নীরমহল।
ভারতের উদয়পুরের একটি প্রাসাদের আদৌলে এটি তৈরী করা। ১৯৩৮ সালে রুদ্র সাগর নামে তিন কিলোমিটার ব্যাসার্ধের একটি লেকের মধ্যে এটি তৈরী করা হয়। আগরতলা থেকে এটি ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। মহলটির সৌন্দর্য ফুটে উঠে বর্ষাকালে। এটির লাল রঙ করা অংশ পানির নীচে থাকে তখন এটিকে পানিতে ভাসমান বলে মনে হয়। মহলের অভ্যন্তরে একটি চাপা ফুলের বাগান আছে। এছাড়াও নৌকা ভিড়ানোর ঘাট এবং ভ্রমনকারীদের জন্য ভাড়ায় রুমের ও ব্যবস্থা করা হচ্ছিল। ইঞ্জিলচালিত বড় নৌকার করে নীর মহলে যেতে হয়। নীর মহলের ঘাটে এখন হোটেল আছে। কিছু টাকা খরচ করলে লেকে কায়াকিং এর স্বাদ ও নিতে পারেন।

ওখান থেকে কাছেই গেলাম হিন্দুধর্মালম্বীদের ৫১ টি তীর্থস্থানের একটি ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দির। মন্দিরটির পাশে আছে বিশাল শান বাধাঁনো দিঘী। মন্দিরটি ঢাকেশ্বরী মন্দিরের আদলে তৈরী। নীল স্বচ্ছ পানির দিঘীতে বড় বড় রুই কাতলা মাছ খেলা করছে।

একই রোডে আছে আরেকটি মন্দির পাগলী মাসির মন্দির, মন্দিরটির স্থাপত্য শৈলীও নজরকাড়া। সিপাহীজলা নামে চিড়িয়াখানা পথেই পড়েছিল। তবে সময়ক্ষেপন করতে চাইনি বলে চিড়িয়াখানায় যায়নি।

একই রাস্তায় যাওয়ার সময় আমাদের মাইক্রোবাসটি চা বাগান, শাল বাগান এবং রাবার বাগান অতিক্রম করেছিল। কিছুক্ষনের জন্য গাড়ি থামিয়ে আমরা প্রকৃতির নিরিবিলি পরিবেশ উপভোগ করেছিলাম।

সর্বশেষ আমরা রওনা দিলাম কমলাসাগর দিঘীর কাছে। উল্লেখ্য কমলাসাগর দিঘীর পাশেই বাংলাদেশ বর্ডার। ওখানে বাংলাদেশের সিম কাজ করে। দিঘীর পাশে বড় বড় পাইন গাছ। কমলাসাগর এর পাশেই আছে অনেক পুরানো কালী মন্দির। পাশে হোটেল এ আমরা খাওয়ার ব্যবস্থা করে নিলাম।

ওখানে থেকে বিকাল চারটায় রওনা দিয়ে পাচটার আগেই বর্ডারে পৌছালাম। ছয়টার আগে বর্ডার অতিক্রম করে আমাদের ৩০ ঘন্টার ত্রিপুরা ভ্রমন শেষ করলাম।

খাওয়ার ব্যাপারে বলতে গেলে একটা কথা বলতে হয়। আগরতলার হোটেলগুলোতে নিরামিষ সবচেয়ে মজার হয়। ওদের মাংসের ও মাছের রান্না আমাদের মনঃপুত হয়নি। খাবারের বিভিন্ন আইটেমের মাঝে সয়াবিন দিয়ে সবজি এবং পুটি মাছের শুটকী আর বেগুন ভর্তার স্বাদ এখনো মুখে লেগে আছে।

পুরা আগরতলা শহরে নাস্তা আর চা একসাথে বিক্রি করে এমন দোকান পাইনি। তবে হোটেলগুলোতে খুব সুস্বাদু নরম রুটি ও সবজি পাওয়া যায়।

অবশেষ বলব বাজেট খরচে এবং নিরিবিলি পরিবেশের জন্য আগরতলা সুন্দর জায়গা। আপনার ক্রয়কৃত কোন খাদ্যদব্যের আবর্জনা যেখানে সেখানে ফেলবেন না। প্রাসাদের অভ্যন্তরে পরিবেশ নষ্টের জন্য দন্ডিত হতে পারেন এটা মাথায় রাখবেন।

Farjana Akter

Generations previous to the year 2000 used to reach, exclusively, for travel agencies when wanting to plan a trip. Consequently, travel agents became personal counselors, destined to help customers with their search to build the perfect vacation itinerary.

199 thoughts on “Tripura travel

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *