Kolkata Travel

Spread the love

আমরা যারা ভারতের নানা প্রান্তে বেড়াতে যাই, কম-বেশি সবাই সাধারণত কলকাতাকে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করে থাকি। ঢাকা থেকে বা অন্যান্য জায়গা থেকে প্রথমত কলকাতায় যাই, আর তারপর সেখান থেকে দিল্লী, আগ্রা, জয়পুর, ব্যাঙ্গালোর, চেন্নাই, শিমলা, মানালি, কাশ্মীরসহ ভারতের নানা জায়গায় ছুটে যাই।

আর ফিরে আসার সময় হয়তো একরাত বা একটা দিন ট্রেন, বাস বা প্লেনের শিডিউল না মেলায় বাধ্য হয়ে কলকাতায় থেকে যাই। কিন্তু ইচ্ছা করে কলকাতায় দুই একটি দিন তেমন কেউ থাকি না।

তাই বেশ কিছুদিন থেকে ইচ্ছা হচ্ছিল একবার কলকাতায় গিয়ে শুধু কলকাতাতেই কয়েকটা দিন হেলেদুলে কাটাবো। তো তেমন ভাবনা থেকেই কিছুদিন আগে ৬/৭ দিন কাটিয়ে এলাম কলকাতার অলিগলিতে। দারুণ লেগেছে, চমৎকার কেটেছে কলকাতার সেই দিনগুলো।

তেমন জনপ্রিয় নয় আর ছোট ছোট কিছু জায়গায় নিজের মতো করে ঘুরে বেড়িয়েছি। কখনো হেঁটে, কখনো বাসে বা ট্রামে, কখনো মেট্রোতে আবার প্রয়োজনে কখনো ট্যাক্সি করেও। সত্যি বলতে কী, এভাবে ৬/৭ দিন কলকাতার অলিগলিতে ঘুরে আমি শহরটার প্রেমে পড়ে গেছি!

আমার মতো হতদরিদ্র, ভবঘুরে, উদ্ভট রকমের ভ্রমণ পাগলামি যার মাথায় আছে, তার উপর যার নেই বিমান ভাড়া করে অন্য কোনো দেশে যাবার তেমন সাধ্য, তার কাছে সকল বৈচিত্রমণ্ডিত ভারতের নানা জায়গা ঘুরে দেখতে পারাটাই অনেক বড় পাওয়া আর নিজের ভ্রমণের তৃষ্ণা মেটানোর জন্য এক অসামান্য আশ্রয়।

তাই সময়, সুযোগ আর সামান্য কিছু অর্থের যোগান পেলেই পালাই। এক ছুট দেই যখন যেখানে খুশি। প্রত্যেকবার যাই, আর নতুন নতুন প্রেমে পড়ি! কী করবো বলুন, এত কম খরচে, এত এত বৈচিত্র আর মনের মতো করে ঘুরে বেড়ানোর জায়গা পেলে না গিয়ে কী পারা যায়? এই দেখুন না, কলকাতাতেই কিছু নেই, কিছু নেই করেও ৬ দিন ঘুরে ঘুরেও তেমন কিছুই দেখতে পারিনি, যা যা দেখতে চেয়েছি বা ইচ্ছা করেছে।

অবশেষে সেই সব সময়ের অনেক কিছু দেখতে না পাওয়া আর অনেক জায়গায় যেতে না পারার অতৃপ্তি নিয়েই ফিরতে হয়েছে, যেন আবারো যাবার জন্য নিজের মধ্যেই একটা ছটফটানি অনুভব করি। যেন আবার পালাতে পারি, সুযোগ পেলেই।
তো আর কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক, কলকাতায় সদ্য কাটিয়ে আসা এক সপ্তাহে কী কী দেখেছি, কোথায় কোথায় ঘুরেছি, কীভাবে গিয়েছি, কী কী খেয়েছি? আর কেমন খরচ করেছি? তার সার সংক্ষেপ।

সন্ধ্যায় কলকাতায় পৌঁছে একটা হোটেলে খুঁজে নিয়েই ফ্রেশ হয়ে নিলাম। আর এরপর যত ক্লান্তিই থাকুক না কেন, আমাকে রুমে বেঁধে রাখা অসম্ভব, যদি না বাইরে কোনো দুর্যোগ না হয়ে থাকে। রুমে আমি শুধু ঘুমোতেই ফিরি, যতটা সম্ভব বাইরে ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে রুমে ফেরা আমার প্রিয় কাজ।

কারণ যত বেশি ক্লান্ত হব তত তাড়াতাড়ি ঘুমে তলিয়ে যাবো, আর তাতে করে রুমে কী কী সুবিধা আছে কী নেই সেইসব খুঁজে দেখার মতো সময় আর মানসিকতা থাকে না। আবার বের হব যতটা সম্ভব কাক ভোরে, যত বেশি ঘুরে দেখা যায়। এই জন্য রুম খোঁজার ক্ষেত্রে আমি সাধারণত দুটো বিষয় খেয়াল রাখি- পরিচ্ছন্ন আর নিরাপদ। ব্যস, এটুকু পেলেই আমি খুশি।

তবে এবার যেহেতু প্রথমবার পরিবার নিয়ে গিয়েছি তাই আমার আগের সেই নিজস্ব উপায় বাদ দিয়ে, ওদের সুবিধা মতো রুম নিয়েছি যেন দেশে ফিরে অনন্ত খোটা শুনতে না হয়! যে কারণে শুধু রুম ভাড়াতেই আমার একার দুটো ভ্রমণ খরচের বাজেট হাওয়া হয়ে গিয়েছে। তাই সেটা বাদ।

শুধু কলকাতা বা এর আশেপাশেই কতকিছু যে আছে দেখার বা ঘুরে বেড়াবার সেটা এবার কিছুটা দেখেছি আর মন প্রাণ ভরে উপভোগ করেছি।

১) যেমন বাচ্চাদের নিয়ে একটি দিন অনায়াসে কাটিয়ে দেয়া যায় অল্প কয়েক কিলো দূরের সাইন্স সিটিতে। ঝকঝকে, ভ্রমণ বান্ধব, কম খরচে দারুণ উপভোগ্য একটি জায়গা। সাইন্স সিটির বিস্তারিত গল্প থাকবে আলাদাভাবে।

২) বড় ছোট সবার জন্যই এক অনন্য সুন্দর সময় কাটানোর জায়গা গঙ্গার পাড়। আমরা যাকে পদ্মা নামে চিনি বা জানি। নিউমার্কেট থেকে যে কেউ চাইলে হেঁটে, ট্যাক্সি করে বা এসপ্ল্যানেড থেকে বাসে করেও যেতে পারেন। কী দারুণ ঝকঝকে নদীর পাড় আমাদের এখানে ভাবাই যায় না। যে কারণে এখানেই গিয়েছি তিন তিন বার!

৩) আর সেই গঙ্গার পাড় থেকেই স্টিমারে করে যেতে পারেন ওপারের হাওড়া স্টেশনে মাত্র ৫ টাকায়। এখানে লাভ আছে দুই রকম। স্বচ্ছ জলের মাঝে নৌ ভ্রমণ আর বিশুদ্ধ বাতাস নিতে পারবেন বুক ভরে। আর পারবেন অল্প খরচে হাওড়া যাবার বা ঘুরে দেখার সুযোগ।

৪) সকলের জন্যই চমৎকার একটা জায়গা হতে পারে ময়দান। মানে আমরা যাকে মাঠ বলে থাকি। সেকি বিশাল ময়দান রে বাবা! এক ময়দানেই দেখলাম অন্তত ২০টি টিম ক্রিকেট খেলছে, কয়েকটি টিম ফুটবল, শত শত গাড়ি পার্ক করে রাখা হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন সেক্টরের লোকজন প্যারেড করছে, শত শত, ছেলে-বুড়ো, তরুন-তরুণী ঘুরে বেড়াচ্ছে আর বসে বসে আড্ডা জমিয়েছে অসংখ্য মানুষ। আমাদের ঢাকা শহরের অন্তত ১০০ মাঠ একত্রে করলে ময়দানের অর্ধেকের কাছাকাছি যেতে পারে! এতটা বড়!

এবারের শুধু এটুকুই ঘুরতে পেরেছি মাত্র। বাদ রয়ে গেছে ইকোপার্ক, জোড়াসাঁকো, শান্তি নিকেতন, দিঘা বীচসহ আরও অনেক জায়গা। তবে সেগুলো খুব গরমে পরিবার নিয়ে পেরে উঠিনি। কোনো এক শীতে বা সহনশীল আবহাওয়ায় গিয়ে আবারো থেকে আসবো বেশ কয়েকটা দিন, সেই অপেক্ষায়।

ও হ্যাঁ, যারা পরিবার নিয়ে কলকাতায় কয়েকটি দিন কাটাবার কথা ভাবছেন তাদের জন্য স্পেশাল টিপস-

পকেটে নগদ টাকা, রুপী বা ডলার যতই নিয়ে যান না কেন, আপনি কুলিয়ে উঠতে পারবেন না নিশ্চিতভাবেই। এরচেয়ে ভালো সাধ্য থাকলে একটা আনলিমিটেড ব্যালান্স এর ইন্টারন্যাশনাল ক্রেডিট কার্ড সাথে রাখুন। তাতে করে দুটো উপকার!

এক) অগণিতবার নিজের পকেট থেকে সীমাহীন খরচের ক্লান্তি আর ভয়াবহতা থেকে বেঁচে যাবেন! যাতে করে আপনার হার্টবিট আপাতত ঠিক থাকবে, আর পরে ফিরে এসে কত কী বিল এলো না এলো সেসবের ভাবনা পরেই ভাবা যাবে, বিল এলে!

দুই) পরিবারের কারোই মন খারাপের কারণ না হয়ে, তাদেরকে ইচ্ছেমত খরচ করতে দিন। তাতে করে সারাজীবনের জন্য খোটা শোনা, কানের কাছে অনন্ত আক্ষেপের, ইচ্ছে মতো কেনাকাটা করতে না পারার অগণিত ঘ্যানঘ্যানানি থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে পারবেন!

তবে হ্যাঁ কেনাকাটা যতই করুক না কেন, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কিন্তু কেনাকাটা শেষ হবে না! এটা ভালোভাবে মাথায় রাখবেন। কিছু না কিছু কিন্তু বাদ যাবেই, আর সেটার জন্য অবশ্যই আপনি দায়ী! সেটা যেভাবেই হোক!

Farjana Akter

Generations previous to the year 2000 used to reach, exclusively, for travel agencies when wanting to plan a trip. Consequently, travel agents became personal counselors, destined to help customers with their search to build the perfect vacation itinerary.

9 thoughts on “Kolkata Travel

  • April 11, 2019 at 8:55 am
    Permalink

    Hi, just required you to know I he added your site to my Google bookmarks due to your layout. But seriously, I believe your internet site has 1 in the freshest theme I??ve came across. It extremely helps make reading your blog significantly easier.

    Reply
  • May 5, 2019 at 8:55 pm
    Permalink

    great points altogether, you just gained a new reader. What would you recommend in regards to your post that you made a few days ago? Any positive?

    Reply
  • May 27, 2019 at 10:33 pm
    Permalink

    Hiya, I am really glad I have found this info. Today bloggers publish only about gossips and web and this is really annoying. A good blog with interesting content, that’s what I need. Thanks for keeping this web-site, I will be visiting it. Do you do newsletters? Can not find it.

    Reply
  • June 22, 2019 at 4:50 am
    Permalink

    Hi, I do believe your web site might be having web browser compatibility problems. When I take a look at your blog in Safari, it looks fine however, if opening in I.E., it has some overlapping issues. I simply wanted to provide you with a quick heads up! Other than that, wonderful website.

    Reply
  • July 16, 2019 at 5:40 am
    Permalink

    Hi there, I enjoy reading through your article post. I wanted to write a little comment to support you.

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *